দেশ থেকে যেসব কোম্পানি বিদেশে টাকা পাচার করেছে তারা সরকারের চেয়েও স্মার্ট। আর তারা স্মার্ট বলেই বিদেশে এত টাকা পাচার করতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। কোম্পানিগুলোর বিদেশে টাকা পাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘কত কিছু যে তেলেসমাতি হয়। আমি তো মাঝে মাঝে টের পাই, কী যে হচ্ছে, না হচ্ছে। টাকা তো এমনি পাঠায় না, লেয়ারিং করে পাঠায়। প্রথমে টাকা কেরানীগঞ্জে পাঠাবে, তারপর গাজীপুরে, সেখান থেকে রংপুরে এবং শেষ পর্যন্ত টাকা যাবে সিলেটে।’
রাজধানীর পল্টনে গতকাল ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা এ কথা বলেন। ইআরএফ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ‘করপোরেট খাতে আর্থিক স্বচ্ছতা’ শীর্ষক সেমিনারও অনুষ্ঠিত হয়।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সাংবাদিকরা হচ্ছেন সামাজিক অডিটর। অডিটররা তৃতীয় চোখ আর আপনারা চতুর্থ চোখ। আপনারা দেখবেন। এটা কিন্তু খুব বেশি দরকার। আপনারা অডিটরদের অডিট করবেন। অডিটররা যে সব তথ্য আনতে পারছে বা দিচ্ছে তাও না। এক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টি থাকা লাগে। আপনারা হচ্ছেন সেই অন্তর্দৃষ্টি।’
অন্তর্বর্তী সরকার ভালো-মন্দ মিলিয়ে কাজ করছে মন্তব্য করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের বাইরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অত্যন্ত ভালো। একজন ভদ্রলোক টিভিতে রোববার এক অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারকে অথর্ব-টথর্ব বলেছেন। এগুলো কিছু মানুষের এমন ধরনের বয়ান, যা ফ্যাসিস্টকে সহায়তা করছে। দেখছি যে বয়ানগুলোর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারকে আরো দুর্বল করা হচ্ছে এবং ফ্যাসিস্টকে আরো উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। তিনি (ওই ব্যক্তি) অবশ্য এও বলেছেন যে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো টাকাপয়সা মারেনি, ব্যাংককে আরো স্থিতিশীল করেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়িয়েছে। তবে আমরা যে সব ভালো করছি, তা নয়। অনেক ধরনের উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে যখন কথা বলি, দেখি যে বাংলাদেশের ব্যাপারে তারা অনেক ইতিবাচক।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের পরামর্শ বাজেট প্রণয়নে সহায়ক হয়। গত বছর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চাপে সরকার যখন বাজেটের ধরন নিয়ে ভাবছিল, তখন বিশ্লেষকদের প্রস্তাব ছিল বাজেট সংকোচনমূলক করার জন্য। আমরা বড় বাজেট ভেবেছিলাম, কিন্তু আপনাদের পরামর্শে তুলনামূলক ছোট ও বাস্তবসম্মত বাজেট করেছি। এ কৃতিত্ব আপনাদেরই।’
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল বাংলাদেশের (এফআরসি) চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সভাপতি এনকেএ মবিন ও আইসিএবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশীষ বসু।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভাতা নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের যদি অসম্মতি থাকে সেটি অমান্য করা বড় অনিয়ম। তারা কোনো অবস্থাতেই এটি করতে পারেন না। সরকারের উচিত এটা অবিলম্বে বন্ধ করে দেয়া এবং তারা কেন এটা করছেন সে বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।’